গিয়াস উদ্দিন ভুলু।।
কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বুধবার (১ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ আলু গোলা পোস্টসংলগ্ন শফি চেয়ারম্যানের মাছের ঘের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তিন ব্যক্তি জেলের ছদ্মবেশে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেন। তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে একজনকে আটক করা হয়। অপর দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা ঠেলা জাল তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।
আটক ব্যক্তি আজিজুল হক (৩৮), টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ ডেলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
একই দিনে ভোরে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের শাহপরীরদ্বীপ বিওপির আওতাধীন নাফ নদী এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বিজিবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌ টহল জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে একটি সন্দেহজনক নৌকার গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। পরে একজন ব্যক্তিকে দুটি বস্তা নিয়ে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ধাওয়া করে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তিনি মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। পরে তার সঙ্গে থাকা দুটি বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ অভিযানে আটক ব্যক্তি জাগীর হোসেন (২৮), টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক ও সীমান্ত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত স্থল ও নৌ টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, আটক দুই আসামি এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
All rights reserved © 2026 ChannelTeknaf24.Com