দীর্ঘ প্রতীক্ষা, স্থবিরতা ও নানা সংকট কাটিয়ে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগমন বাড়লে দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে এবং উন্মোচিত হবে স্থানীয় মানুষের জীবিকার নতুন সম্ভাবনা—এমন প্রত্যাশা তাদের।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের পদচারণায় দ্বীপের পরিবেশ আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে—এমন আশায় আনন্দিত দ্বীপবাসী। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক স্থবিরতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা।
এদিকে পর্যটকদের বরণ করে নিতে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলো। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দ্বীপের হোটেল ব্লুসি রিসোর্টের পরিচালক আব্দু রশিদ বলেন, ‘প্রতি বছর মাত্র দুই থেকে তিন মাসের পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে দ্বীপে আগত পর্যটকদের রাত্রিযাপন বন্ধ থাকা, পরিবেশসংক্রান্ত নানা সমস্যা এবং পর্যটক সীমিত রাখার কারণে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। এ বছর পর্যটক আগমনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাত্রিযাপনে বাধা না থাকায় আমরা আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, যথাসময়ে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলে পর্যটকদের পদচারণায় দ্বীপের অলিগলি মুখরিত হবে। একই সঙ্গে দ্বীপে বসবাসরত মানুষের জীবন-জীবিকার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে সেন্টমার্টিন দ্বীপের হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টে কাজ করার জন্য শ্রমিক নিয়োগের আবেদন বেড়েছে। এ পর্যন্ত তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত তিনটি জাহাজ পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে। আগামী ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজগুলো চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে বাকি জাহাজগুলোও চলাচলের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও জানান, দ্বীপে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে সেন্টমার্টিনে ফিরছে নতুন প্রত্যাশা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় দ্বীপটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে—এমন স্বপ্নই এখন দেখছেন দ্বীপের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।
https://slotbet.online/