টেকনাফ প্রতিনিধি।।
নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির যৌথ অভিযানে নাফ নদী থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের একটি বড় চালান মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সাবরাং এলাকায় নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকারী দল বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ইঞ্জিনচালিত একটি কাঠের নৌকায় কয়েকজন ব্যক্তিকে দ্রুতগতিতে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। নৌকাটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির নৌ-টহলদল থামার সংকেত দেয়। তবে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয়। পরে নৌকাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে নদীতে ফেলে দেওয়া বস্তায় ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
এরপর সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির আভিযানিক দল নাফ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় বস্তাটি উদ্ধার করে। পরে বস্তাটি তল্লাশি করে সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-মোহাম্মদ জামাল হোসেন (৩৮), মোহাস্মদ এমরান (২৫) ও মোহাম্সদ ইসমাইল (২৪)। তাদের মধ্যে জামাল হোসেন টেকনাফের কুলালপাড়া এবং এমরান ও ইসমাইল সাবরাংয়ের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন-সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা কৌশল পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা নজরদারি নৌ-টহল ও সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন- দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
আটক তিন আসামি ও জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
https://slotbet.online/