গিয়াস উদ্দিন ভুলু।।
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পাচারের সময় আনুমানিক ১৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দাবি, এটি একক অভিযানে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা।
৬৪ বিজিবি জানায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়।
এর আগে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলার অবরাং এলাকা দিয়ে দুটি ছোট চালান পাচারের চেষ্টাকালে প্রযুক্তির সহায়তায় তিন লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করে বিজিবি।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় সুবিধা করতে না পেরে চোরাকারবারীরা বুধবার দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকাযোগে ইয়াবার চালান নিয়ে হ্নীলা বিওপির সুইচ গেইট এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আগে থেকেই কৌশলগত অবস্থানে থাকা বিজিবির বিশেষ টহল দল নৌকাটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে হালকা ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পায় বিজিবি সদস্যরা। বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪০ কার্টনে মোট ১৪ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—হ্নীলা জেলেপাড়ার গোপাল দাসের ছেলে জয়ঘর দাস (৫০) এবং হ্নীলার ফুলের ডেলের মো. শফিকের ছেলে মো. হোসাইন (২০)।
৬৪ বিজিবি আরও জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বমোট ১ কোটি ৪৩ লাখ পিস ইয়াবা এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, জি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সদর দপ্তর বিজিবির নির্দেশনায় মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার পাচার রোধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
বিজিবি সূত্র জানায়, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকদমন ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
https://slotbet.online/